You are currently viewing সূরা আল-হাজ্জ ২০টি শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর এবং ২০টি MCQ
সূরা আল-হাজ্জ ২০টি শর্ট

সূরা আল-হাজ্জ ২০টি শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর এবং ২০টি MCQ

সূরা আল-হাজ্জ (আরবি: سورة الحج) কুরআন মাজিদের ২২ নং সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ একটি মাদানী সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা ৭৮টি। সূরা হাজ্জ সম্পর্কে ৪০টি কুইজ প্রশ্ন দেয় হলো আশা করি সূরা হাজ্জ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সূরা হাজ্জ

সূরা আল-হাজ্জ সম্পর্কে ২০টি শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর:

১. সূরা আল-হাজ্জ কত নং সূরা?
উত্তর: এটি কুরআনের ২২ নং সূরা।

২. সূরা আল-হাজ্জে কয়টি আয়াত আছে?
উত্তর: ৭৮টি আয়াত।

৩. সূরা আল-হাজ্জ কোন ধরনের সূরা?
উত্তর: এটি মাদানী সূরা।

৪. সূরা আল-হাজ্জের মূল বিষয় কী?
উত্তর: হাজ্জ (তীর্থযাত্রা), কিয়ামত, আল্লাহর একত্ব এবং মানুষের দায়িত্ব।

৫. সূরা আল-হাজ্জে হাজ্জের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: হাজ্জ পালনের নির্দেশ এবং এর তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে।

৬. সূরা আল-হাজ্জে কিয়ামতের কী আলোচনা আছে?
উত্তর: কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং মানুষের পুনরুত্থানের কথা বর্ণিত হয়েছে।

৭. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর একত্বের কী বার্তা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।

৮. সূরা আল-হাজ্জে মানুষের দায়িত্ব কী বলা হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহর ইবাদত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৯. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে প্রকৃতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা ও মহিমা প্রকাশ পায়।

১০. সূরা আল-হাজ্জে মুমিনদের কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: জান্নাতের প্রতিশ্রুতি এবং সফলতার বার্তা।

১১. সূরা আল-হাজ্জে কাফিরদের কী সতর্ক করা হয়েছে?
উত্তর: তাদের শাস্তি এবং জাহান্নামের ভয় দেখানো হয়েছে।

১২. সূরা আল-হাজ্জে নবী-রাসুলদের কী ভূমিকা বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: তারা মানুষকে সঠিক পথে আহ্বান করেছেন।

১৩. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর নিদর্শনগুলোর কী আলোচনা আছে?
উত্তর: আল্লাহর নিদর্শনগুলো চিন্তাশীলদের জন্য শিক্ষণীয়।

১৪. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে ইবাদতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: ইবাদত মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

১৫. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ঈমানের অংশ।

১৬. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে আল্লাহর রহমতের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহর রহমত অসীম এবং তিনি ক্ষমাশীল।

১৭. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে?
উত্তর: মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৮. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে আল্লাহর কুদরতের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

১৯. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে দুনিয়ার জীবনের মোহ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে?
উত্তর: দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রতারণাময়।

২০. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে আখিরাতের জীবনের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: আখিরাতের জীবনই চিরস্থায়ী এবং প্রকৃত সাফল্য।


সূরা আল-হাজ্জ সম্পর্কে ২০টি MCQ প্রশ্ন:

১. সূরা আল-হাজ্জ কত নং সূরা?
ক) ২০
খ) ২২
গ) ২৫
ঘ) ৩০
উত্তর: খ) ২২

২. সূরা আল-হাজ্জে কয়টি আয়াত আছে?
ক) ৭০
খ) ৭৮
গ) ৮০
ঘ) ৮৫
উত্তর: খ) ৭৮

৩. সূরা আল-হাজ্জ কোন ধরনের সূরা?
ক) মাক্কী
খ) মাদানী
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: খ) মাদানী

৪. সূরা আল-হাজ্জের মূল বিষয় কী?
ক) হাজ্জ
খ) কিয়ামত
গ) আল্লাহর একত্ব
ঘ) সবকটি
উত্তর: ঘ) সবকটি

৫. সূরা আল-হাজ্জে কীভাবে কিয়ামতের কথা বলা হয়েছে?
ক) ভয়াবহতা
খ) সুখদ
গ) সাধারণ
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) ভয়াবহতা

৬. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর একত্বের কী বার্তা দেওয়া হয়েছে?
ক) আল্লাহ এক
খ) আল্লাহর কোনো শরিক নেই
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: গ) উভয়ই

৭. সূরা আল-হাজ্জে মানুষের দায়িত্ব কী বলা হয়েছে?
ক) ইবাদত
খ) ন্যায়বিচার
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: গ) উভয়ই

৮. সূরা আল-হাজ্জে প্রকৃতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে কীভাবে?
ক) আল্লাহর ক্ষমতা
খ) মানুষের দুর্বলতা
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) আল্লাহর ক্ষমতা

৯. সূরা আল-হাজ্জে মুমিনদের কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে?
ক) জান্নাত
খ) দুনিয়ার সম্পদ
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) জান্নাত

১০. সূরা আল-হাজ্জে কাফিরদের কী সতর্ক করা হয়েছে?
ক) শাস্তি
খ) জাহান্নাম
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: গ) উভয়ই

১১. সূরা আল-হাজ্জে নবী-রাসুলদের ভূমিকা কী?
ক) সঠিক পথে আহ্বান
খ) শাস্তি দেওয়া
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) সঠিক পথে আহ্বান

১২. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর নিদর্শনগুলো কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
ক) শিক্ষণীয়
খ) সাধারণ
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) শিক্ষণীয়

১৩. সূরা আল-হাজ্জে ইবাদতের গুরুত্ব কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
ক) জীবনের উদ্দেশ্য
খ) ঐচ্ছিক
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) জীবনের উদ্দেশ্য

১৪. সূরা আল-হাজ্জে সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা কীভাবে বলা হয়েছে?
ক) ঈমানের অংশ
খ) ঐচ্ছিক
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) ঈমানের অংশ

১৫. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর রহমতের কথা কীভাবে বলা হয়েছে?
ক) অসীম
খ) সীমিত
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) অসীম

১৬. সূরা আল-হাজ্জে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
ক) মাটি থেকে
খ) পানি থেকে
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) মাটি থেকে

১৭. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর কুদরতের কথা কীভাবে বলা হয়েছে?
ক) সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান
খ) সীমিত ক্ষমতা
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান

১৮. সূরা আল-হাজ্জে দুনিয়ার জীবনের মোহ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
ক) ক্ষণস্থায়ী
খ) চিরস্থায়ী
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) ক্ষণস্থায়ী

১৯. সূরা আল-হাজ্জে আখিরাতের জীবনের গুরুত্ব কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
ক) চিরস্থায়ী
খ) ক্ষণস্থায়ী
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) চিরস্থায়ী

২০. সূরা আল-হাজ্জে আল্লাহর ক্ষমতার উদাহরণ কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
ক) প্রকৃতির মাধ্যমে
খ) মানুষের মাধ্যমে
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) প্রকৃতির মাধ্যমে

সূরা হাজ্জের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

সূরা আল-হাজ্জ (আরবি: سورة الحج) কুরআন মাজিদের ২২ নং সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ একটি মাদানী সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা ৭৮টি। সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে “হাজ্জ” বা তীর্থযাত্রার বিষয়বস্তুর কারণে, যা এই সূরায় আলোচিত হয়েছে। সূরাটিতে হাজ্জের বিধান, কিয়ামত, আল্লাহর একত্ব, মানুষের দায়িত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।


সূরা হাজ্জ এর শানে নুযূল 

সূরা আল-হাজ্জ মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এই সূরার কিছু আয়াত হাজ্জ (তীর্থযাত্রা) সম্পর্কিত বিধান নিয়ে আলোচনা করে, যা ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি। হাজ্জের বিধান মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। এছাড়াও, এই সূরায় কাফিরদের অপপ্রচার, মুমিনদের ঈমানের পরীক্ষা এবং আল্লাহর একত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছে।


সূরা হাজ্জ এর গুরুত্বপূর্ণ দিক:

১. হাজ্জের বিধান: হাজ্জ পালনের নির্দেশ এবং এর তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে।
২. কিয়ামতের আলোচনা: কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং পুনরুত্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. আল্লাহর একত্ব: আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।
৪. মানুষের দায়িত্ব: আল্লাহর ইবাদত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৫. প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর নিদর্শন: প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা ও মহিমা প্রকাশ পায়।
৬. মুমিন ও কাফিরদের ভাগ্য: মুমিনদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি এবং কাফিরদের জন্য জাহান্নামের সতর্কতা।
৭. সামাজিক ন্যায়বিচার: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ঈমানের অংশ।


সূরা হাজ্জ এর শিক্ষা:

১. হাজ্জের গুরুত্ব: হাজ্জ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি সামাজিক ঐক্য ও আত্মশুদ্ধিরও মাধ্যম।
২. কিয়ামতের প্রস্তুতি: কিয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
৩. আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস: আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।
৪. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ঈমানের দাবি।
৫. প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর চিন্তা: প্রকৃতির নিদর্শনগুলো আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করে, যা আমাদের চিন্তা-ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করে।
৬. দুনিয়ার মোহ ত্যাগ: দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই এর মোহ ত্যাগ করে আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া।
৭. মুমিনদের দায়িত্ব: আল্লাহর ইবাদত করা এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।


সূরা হাজ্জ এর

মূল বিষয়বস্তু:

১. হাজ্জের বিধান ও তাৎপর্য: হাজ্জ পালনের নির্দেশ এবং এর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব।
২. কিয়ামত ও পুনরুত্থান: কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং মানুষের পুনরুত্থানের কথা।
৩. আল্লাহর একত্ব ও ক্ষমতা: আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
৪. মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য: আল্লাহর ইবাদত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৫. প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর নিদর্শন: প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা ও মহিমা প্রকাশ পায়।
৬. মুমিন ও কাফিরদের ভাগ্য: মুমিনদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি এবং কাফিরদের জন্য জাহান্নামের সতর্কতা।
৭. সামাজিক ন্যায়বিচার: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ঈমানের অংশ।
৮. দুনিয়া ও আখিরাতের পার্থক্য: দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী।


উপসংহার:

সূরা আল-হাজ্জ মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যা হাজ্জের বিধান, কিয়ামতের ভয়াবহতা, আল্লাহর একত্ব এবং মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি মুমিনদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আখিরাতের প্রস্তুতির বার্তা বহন করে।

সূরা হাজ্জ ৭৭ ও ৭৮ আয়াতের ব্যাখ্যা

আয়াত ৭৭:

আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

বাংলা অনুবাদ:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা রুকু করো, সিজদা করো, তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং ভালো কাজ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”

ব্যাখ্যা:

এই আয়াতে মুমিনদেরকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
১. রুকু করা: নামাজের রুকু করা, যা আল্লাহর সামনে বিনয় প্রকাশের প্রতীক।
২. সিজদা করা: আল্লাহর সামনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বিনয় প্রকাশ।
৩. ইবাদত করা: শুধু নামাজ নয়, বরং সব ধরনের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন।
৪. ভালো কাজ করা: ইবাদতের পাশাপাশি সমাজে ভালো কাজ করা, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।

এই আয়াতের মাধ্যমে মুমিনদেরকে সফলতার পথ দেখানো হয়েছে, যা হলো আল্লাহর ইবাদত এবং ভালো কাজের মাধ্যমে আখিরাতের সফলতা অর্জন।


আয়াত ৭৮:

আরবি:
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ ۚ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ ۖ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

বাংলা অনুবাদ:
“আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যথাযথভাবে। তিনি তোমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন এবং ধর্মে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্ব থেকেই তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ এবং এ কিতাবেও (এ নাম রেখেছেন), যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষী হও। অতএব, তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। তিনি তোমাদের মাওলা (রক্ষক)। কত উত্তম মাওলা এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!”

ব্যাখ্যা:

এই আয়াতে মুমিনদেরকে আল্লাহর পথে জিহাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে জিহাদ বলতে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম ও প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়েছে। এরপর আল্লাহ মুমিনদেরকে কিছু বিশেষ মর্যাদা ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন:
১. নির্বাচিত উম্মত: আল্লাহ মুমিনদেরকে তাঁর পথে নির্বাচিত করেছেন।
২. ধর্মে সহজতা: ইসলামে কোনো সংকীর্ণতা বা কঠোরতা নেই, এটি সহজ ও স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা।
৩. ইবরাহিম (আ.)-এর মিল্লাত: ইসলাম হলো ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মের ধারাবাহিকতা।
৪. মুসলিম নাম: আল্লাহ মুমিনদেরকে “মুসলিম” নামে অভিহিত করেছেন, যা আত্মসমর্পণকারী অর্থ বহন করে।
৫. রাসূলের সাক্ষ্য: রাসূল (সা.) মুমিনদের জন্য সাক্ষী হবেন এবং মুমিনরা অন্য মানুষের জন্য সাক্ষী হবে।
৬. সালাত ও যাকাত: সালাত কায়েম করা এবং যাকাত দেওয়া মুমিনদের প্রধান দায়িত্ব।
৭. আল্লাহর উপর ভরসা: আল্লাহই মুমিনদের মাওলা (রক্ষক) এবং তিনি উত্তম সাহায্যকারী।


সারমর্ম:

সূরা আল-হাজ্জের ৭৭ ও ৭৮ আয়াতে মুমিনদেরকে আল্লাহর ইবাদত, ভালো কাজ, জিহাদ এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আয়াতগুলো মুমিনদেরকে সফলতার পথ দেখায় এবং তাদেরকে আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে চলার অনুপ্রেরণা দেয়। এছাড়াও, এতে ইসলামের সহজতা, ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মের ধারাবাহিকতা এবং মুমিনদের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা আল-হাজ্জের নির্বাচিত আয়াতসমূহের অর্থ ও ব্যাখ্যা:


সূরা হাজ্জ আয়াত ৭৮

আরবি:
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ ۚ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ ۖ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

বাংলা অনুবাদ:
“আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যথাযথভাবে। তিনি তোমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন এবং ধর্মে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্ব থেকেই তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ এবং এ কিতাবেও (এ নাম রেখেছেন), যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষী হও। অতএব, তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। তিনি তোমাদের মাওলা (রক্ষক)। কত উত্তম মাওলা এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!”

ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে মুমিনদেরকে আল্লাহর পথে জিহাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে জিহাদ বলতে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম ও প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ মুমিনদেরকে নির্বাচিত করেছেন এবং ইসলামে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটি ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মের ধারাবাহিকতা। মুমিনদেরকে “মুসলিম” নামে অভিহিত করা হয়েছে, যা আত্মসমর্পণকারী অর্থ বহন করে। রাসূল (সা.) মুমিনদের জন্য সাক্ষী হবেন এবং মুমিনরা অন্য মানুষের জন্য সাক্ষী হবে। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা মুমিনদের প্রধান দায়িত্ব। আল্লাহই তাদের মাওলা (রক্ষক) এবং তিনি উত্তম সাহায্যকারী।


সূরা হাজ্জ আয়াত ৪১

আরবি:
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ

বাংলা অনুবাদ:
“যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করব, তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণতি আল্লাহরই কাছে।”

ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। যারা পৃথিবীতে ক্ষমতা লাভ করবে, তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। এটি মুমিনদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সব কাজের পরিণতি আল্লাহর হাতে, তাই মুমিনদেরকে সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে।


সূরা হাজ্জ আয়াত ৩৭

আরবি:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অনুবাদ:
“আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তোমাদের তাকওয়াই তাঁর কাছে পৌঁছায়। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করো এ জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। আর তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।”

ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মুমিনদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি) তাঁর কাছে পৌঁছায়। কুরবানির মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।


সূরা হাজ্জ্ব আয়াত ৩০

আরবি:
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ ۗ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ۖ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

বাংলা অনুবাদ:
“এটাই (হাজ্জের বিধান)। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষা করে, তা তার জন্য তার রবের কাছে উত্তম। আর তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে যা তোমাদেরকে শোনানো হয়েছে তা ছাড়া। সুতরাং তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো এবং মিথ্যা কথা বলো না।”

ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে হাজ্জের বিধান এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষা করা মুমিনদের জন্য উত্তম কাজ। চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে কিছু নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে। মুমিনদেরকে মূর্তির অপবিত্রতা এবং মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাকতে হবে।


সূরা হাজ্জ আয়াত ৭৩

আরবি:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ ۖ وَإِن يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ۚ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ

বাংলা অনুবাদ:
“হে মানুষ! একটি উপমা বর্ণনা করা হয়েছে, তা মনোযোগ দিয়ে শুনো। যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ছাড়া ডাকো, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদি তারা সবাই একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেয়, তবে তারা তা ফিরে পাবে না। কত দুর্বল আহ্বানকারী এবং কত দুর্বল যাকে আহ্বান করা হয়।”

ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে আল্লাহর একত্বের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। যেসব মূর্তি বা দেবতাকে মানুষ আল্লাহ ছাড়া ডাকে, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না। যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেয়, তবে তারা তা ফিরে পাবে না। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু দুর্বল এবং অক্ষম।


সারমর্ম:

এই আয়াতগুলোতে আল্লাহর একত্ব, ইবাদত, তাকওয়া, হালাল-হারামের বিধান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মূর্তিপূজার অসারতা সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুমিনদেরকে আল্লাহর পথে চলার এবং তাঁর বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।